ঢাকায় প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬ শুরু
রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে 'প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬' এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে কলেরা টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে 'প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬'। ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন এবং দেশব্যাপী কলেরা প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও টিকাদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এই রোগ দমনে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, এই ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপের টিকাদান কার্যক্রম আগামী ২২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকাদান কার্যক্রম আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুই ডোজের এই টিকাদানের ক্ষেত্রে প্রতি দুই ডোজের মধ্যে ন্যূনতম ১৪ দিনের ব্যবধান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে এই কলেরার টিকা দেওয়া হবে। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে দেশের ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দাতা গোষ্ঠী সহযোগিতা প্রদান করছে। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), গ্যাভি (Gavi) এবং ইউনিসেফ (UNICEF) সরাসরি এই কার্যক্রমে সহায়তা ও টিকা সরবরাহের সাথে যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে, জিএভিআইয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ ডোজ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV) সরবরাহে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে পুরো টিকাদান কার্যক্রমে বড় অংকের টিকার প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই রাউন্ডে মোট প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন হবে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রায় ১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডোজ টিকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।








