ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল-দূষণ রোধে ৩৭ সদস্যের সেল গঠন
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল-দূষণ রোধ এবং পুনরুদ্ধার ও নাব্য রক্ষার জন্য ৩৭ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সেল গঠনের কথা জানানো হয়। এই সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:১৬· ১ মিনিট পড়া

রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দখল-দূষণ রোধ করে নদীর স্বাভাবিক নাব্য রক্ষা এবং দখল হয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো যথাযথভাবে পুনরুদ্ধার করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে ৩৭ সদস্যের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গঠিত এই কেন্দ্রীয় সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। এই সেলের প্রধান কাজ হবে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীত নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন তদারকি করা।
রাজধানী ঢাকার চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নদীগুলো এই উদ্যোগের আওতাভুক্ত রয়েছে। এই নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী। দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে এই নদীগুলোর অস্তিত্ব ও স্বাভাবিক প্রবাহ আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় এই সেলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতে এর অধীনে মোট তিনটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাব-কমিটিগুলোর কার্যক্রমে সার্বিক সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এই সাব-কমিটিগুলো নদী পুনরুদ্ধার ও রক্ষা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট দায়িত্বগুলো ভাগাভাগি করে সম্পাদন করবে।
গঠিত সাব-কমিটিগুলোর সদস্য সংখ্যা প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাব-কমিটি-১ এ ১৭ জন সদস্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সাব-কমিটি-২ এ সদস্য রয়েছে ১৬ জন এবং সাব-কমিটি-৩ এ ১৪ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এসব সাব-কমিটি কেন্দ্রীয় সেলের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এই কেন্দ্রীয় সেল এবং এর অধীনস্থ সাব-কমিটিগুলোর সাথে সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট বিভাগ ও অধিদপ্তরও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ এই কেন্দ্রীয় সেলের কার্যক্রমের আওতায় নদ-নদীর দখল-দূষণ রোধ এবং পুনরুদ্ধার ও নাব্য রক্ষার কাজে অংশ নেবে।








