ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩২ ঘণ্টার যানজট ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা ৩২ ঘণ্টার তীব্র যানজটে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত ৩০ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের চান্দিনা থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকজুড়ে এই চরম যানজট ও জনদুর্ভোগের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
এই মহাসড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। মূলত প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
মহাসড়কে এই তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এই পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের ডিসি, এসপি, হাইওয়ে পুলিশের এসপি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি জুম বৈঠক করেন।
এই ভয়াবহ যানজট ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ এলডিপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জনগণের দুর্ভোগ দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন, কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত মনের কষ্ট থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে জানান।
প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, "আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।"
মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং এ ধরনের জনদুর্ভোগ এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহল। দ্রুততম সময়ে এসব প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে না উঠলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








