ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট স্বাভাবিক হচ্ছে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজ শেষে বন্ধ থাকা লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ৪০ কিলোমিটার এলাকার যানজট।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট অবশেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মহাসড়কটির পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য জানিয়েছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল, যা যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছিল। বিশেষ করে আষারিয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আষারিয়ার চর এলাকায় মহাসড়কের প্রায় পাঁচ মিটারজুড়ে থাকা বিপজ্জনক গর্তে মাইক্রোকংক্রিট ঢালাই দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ঢালাই সম্পূর্ণ শক্ত হয়ে যান চলাচলের উপযোগী হতে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন ছিল। এই কারিগরি ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মহাসড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কেবল অপর লেন দিয়ে সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
লেন বন্ধ রাখার এই জরুরি সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর থেকে শুরু করে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাক জুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে থেমে থেমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার দিনভর এই দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা। দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কে যানবাহন আটকে থাকায় অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করে হাইওয়ে পুলিশ ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শনিবার সকালে আষারিয়ার চর ব্রিজের সেই বন্ধ থাকা লেনটি অবশেষে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্রিজ এলাকায় দুটি লেন দিয়েই নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হয়ে আসছে মহাসড়কের দীর্ঘ এই যানজট পরিস্থিতি।
তবে যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে জানানো ব্যক্তি। এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকায় বিভিন্ন স্থানে গাড়ির চালকেরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে সব জায়গায় একসঙ্গে যানবাহন চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো দ্রুত মেরামত করার ফলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সাময়িক এই দুর্ভোগ ও যানজটের পর এখন দুই লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে। হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।








