ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হলো এআই অটো ফাইন সিস্টেম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় জরিমানাব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১ থেকে ৪৫২টি মামলা এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের নতুন অধ্যা শুরু হয়েছে। এই মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে এআই প্রযুক্তিনির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় জরিমানাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
২৫০ কিলোমিটার এলাক জুড়ে বিস্তৃত এই কার্যক্রমে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার হিসেবে শাহীনুর আলম খান দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রাথমিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়क প্রযুক্তির ক্যামেরায় তিন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে শাহীনুর আলম খান জানান, এগুলো হলো নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিং। তবে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ৪৪১টি মামলার বেশির ভাগই অতিরিক্ত গতির কারণে হয়েছে।
প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এই অটো ফাইন সিস্টেমের মাধ্যমে যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংখ্যায় মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে রাইজিংবিডির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৫২টি মামলা করা হয়েছে।
এই মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট কারণ ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৩৯৯টি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে ২৯টি। এর বাইরে যাচাই-বাছাই শেষে ১৩টি মামলা বাতিল করা হয়েছে এবং সার্বিকভাবে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে শাহীনুর আলম খান বলেছেন, এআই প্রযুক্তির অটো ফাইন ক্যামেরা চালুর পর থেকেই চালকেরা সচেতন হয়েছেন। এ কারণে আজ মামলার হার কমেছে। এছাড়া তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ধরন আরও বাড়ানো হতে পারে।
এই ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর আলম মত প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কার্যক্রম আরও বাড়ানো হলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। এরই মধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।








