ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক অটো ফাইন সিস্টেম চালু
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন রোধ ও চাঁদাবাজি কমাতে এআইভিত্তিক 'অটো ফাইন সিস্টেম' চালু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪৯০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন রোধ এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক 'অটো ফাইন সিস্টেম' আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পুরো মহাসড়কজুড়ে মোট ৪৯০টি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলোর মূল কাজ হলো মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, "কেউ নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে, উল্টো পথে চলাচল করলে কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে ওভারটেকিং করলে ক্যামেরা তা শনাক্ত করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে।"
স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, এই জরিমানা কীভাবে পরিশোধ করা হবে বা চালক কীভাবে তা জানতে পারবেন। প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, ক্যামেরা দ্বারা সংগৃহীত জরিপ ও ফাইন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিআরটিএ (BRTA) ডেটাবেজে চলে যাবে। পরবর্তীতে সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়িটির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে জরিপের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
মহাসড়কের শৃঙ্খলা এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে এই প্রযুক্তি একটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, "মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।"
মহাসড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয় তা মালিক পক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক বা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আশা করি এর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমবে।
এছাড়া মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, "মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।"
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআরটিএ, এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারুক আহমেদ, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আরও নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত হয়ে উঠবে।








