টাঙ্গাইলের বিখ্যাত 'জেলা কেক' বা ঝাল চাপড়ির জনপ্রিয়তা
টাঙ্গাইল জেলা জজ কোর্টের পাশের সড়কে তৈরি হওয়া ঐতিহ্যবাহী ঝাল চাপড়ি স্থানীয়ভাবে 'ডিস্ট্রিক কেক' নামে পরিচিত। মাটির চুলায় লাকড়ির আগুনে সেঁকে তৈরি এই বিশেষ খাবারটি কম দামে দারুণ স্বাদের জন্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টাঙ্গাইল জেলা জজ কোর্টের পাশের সড়কে তৈরি হওয়া ঐতিহ্যবাহী ঝাল চাপড়ি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। সাধারণ মানুষের কাছে এই সুস্বাদু খাবারটি 'ডিস্ট্রিক কেক' নামে পরিচিত লাভ করেছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়seর মানুষ এই খাবারটির স্বাদ নিতে ভিড় জমান।
এই সুস্বাদু চাপড়ির মূল উপকরণ হলো চালের গুঁড়া। এর সঙ্গে ময়দা, ডালবাটা, হলুদ, লবণ ও কালিজিরা মিশিয়ে এর ময়ান প্রস্তুত করা হয়। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দুই মণ পর্যন্ত ময়ান তৈরি করা হয়।
চাপড়ি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ ঐতিহ্যবাহী। এটি সয়াবিন তেল বা অন্য কোনো তেলে ভাজা হয় না। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাটির চুলায় লাকড়ির আগুনে সেঁকে এটি তৈরি করা হয়। এর আকারও বেশ চমকপ্রদ; কোনো কোনো চাপড়ির আকার ২৪ ইঞ্চি, আবার কখনো তা ৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
খাবারের মান ও আকر অনুযায়ী এর দাম অত্যন্ত সাশ্রয়ী। ভর্তাসহ এক টুকরা চাপড়ির দাম মাত্র ২৫ টাকা রাখা হয়। কম খরচে পেটপুরে খাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে আসেন।
এই খাবার সম্পর্কে মতিন মিয়া নামের এক ক্রেতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, 'এত কম দামে এর চেয়ে ভালো খাবার আর কোথাও নেই। আর স্বাদও দুর্দান্ত।' তার এই বক্তব্যে খাবারটির জনপ্রিয়তাই ফুটে ওঠে।
ঝাল চাপড়ি সাধারণত বেশ কিছু উপাদেয় অনুষঙ্গ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। এটি সাধারণত আলুভর্তা, ধনেপাতাভর্তা, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, যা এর স্বাদ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
টাঙ্গাইলের এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের টানে প্রতিদিন আসেন নাদিয়া ইসলাম, সাব্বির, মতিন মিয়া ও উজ্জ্বল মিয়ার মতো বহু মানুষ। স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে টাঙ্গাইল জেলা জজ কোর্ট এলাকার এই 'ডিস্ট্রিক কেক' বা ঝাল চাপড়ি।








