জাফলং ইসিএ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ পাথর ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ড্রেজার, এক্সক্যাভেটর ও বারকি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বুধবার সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পরিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার। তার সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পুলিশ। এছাড়া অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, ফাইজুল কবির ও আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জাফলংয়ের পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন বন্ধ করা। এই কার্যক্রমে জড়িত বিভিন্ন ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম জব্দ করার পর ঘটনাস্থলেই সেগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট বা ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১০টি ড্রেজার, ছয়টি এক্সক্যাভেটর এবং পাঁচটি জেনারেটর ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৪৪টি বারকি নৌকা, ১৩টি কনভেয়ার বেল্ট ও ১৫টি শ্যালো মেশিন জব্দ করে সেগুলোও ধ্বংস করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে অভিযানে পাঁচটি ব্যাটারি এবং আলাদাভাবে আরও চারটি ব্যাটারিও ধ্বংস করা হয়েছে।
পরিবেশ ধ্বংসের এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে অভিযਾਨে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মো. আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, "পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলনসহ বায়ুদূষণ, পাহাড়-টিলা কর্তন, অবৈধ ইটভাটা ও নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের এমন নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের মাধ্যমে জাফলংয়ের সংবেদনশীল প্রকৃতি ও প্রতিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।








