জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা পেশ
জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ও বিভিন্ন নতুন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পাঠ্যপুস্তকে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৭· ১ মিনিট পড়া

জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সংস্কার ও নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা সংসদে জানানো হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর থাকা অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বা পিইডিপি-৫ অনুমোদন সাপেক্ষে এই অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীতচর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ রয়েছে, যা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৭৮৩টি। তবে এই রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
পাঠ্যপুস্তকেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক সংযোজন। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নেও বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এসইডিপি কর্মসূচির আওতায় দেশের সব মাদ্রাসায় ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে মিড–ডে মিল চালু করা হবে। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার মোট সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি।
এমপিওভুক্ত এসব মাদ্রাসার মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম মাদ্রাসা ১ হাজার ২৮৪টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসার সংখ্যা ১৮৪টি। জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এসব তথ্য ও প্রস্তাবনার মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে।








