জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের নতুন ভবন হস্তান্তর সম্পন্ন
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে ১৫ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। ৫০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নির্মিত এই ভবনটি ২০২৫ সালে হস্তান্তর করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসাসেবা খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ হলো। ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা এই চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই হাসপাতালের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগারগাঁওয়ে জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট মূল হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়। এর ধারাবাহিকতায় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে এবং সেবার পরিধি বাড়াতে ২০১৯ সালে ১৫ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সব মিলিয়ে ৫০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অত্যন্ত সুচারুভাবে ও পরিমিত ব্যয়ের মাধ্যমে এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে, নির্ধারিত বাজেট থেকে কাজটি সফলভাবে শেষ করায় শেষ পর্যন্ত ১৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়, যা সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন এই সংযোজনার ফলে জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ৫০০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই ১৫ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনটি যুক্ত হওয়ায় এখানকার চিকিৎসাসেবার অবকাঠামোগত মান আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে কমবেশি ৩ হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন এখানে আসেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা গ্রহণ করেন। নতুন ভবন হস্তান্তরের ফলে এখন এই বিপুল পরিমাণ রোগীকে আরও উন্নত ও প্রশস্ত পরিবেশে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
এই অর্জন প্রসঙ্গে জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, 'বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে এই নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের চিকিত্সাসেবার মান তুলনা করা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি এখন একমাত্র বৃহত্ নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল।'
উল্লেখ্য যে, এই পুরো উন্নয়নযাত্রায় ও প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যাপক ডা. মো. নুরুজ্জামান খান খসরু এবং অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সবার ঐকান্তিক সহযোগিতায় আজ জাতীয় নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এবং বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করেছে।








