জরিমানা ছাড়া গাড়ি ও লাইসেন্স নবায়নের সময় বাড়ল
মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময়সীমা জরিমানা ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মূল কর ও ফি দিয়ে লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তির খবর জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাধারণ চালক ও গাড়িমালিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে গত রোববার একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে দেশের মোটরযান মালিক ও চালকরা নির্দিষ্ট একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ লাভ করলেন। সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাগজপত্র নবায়ন না করলে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হয়, যা এই বিশেষ আদেশের ফলে সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, গাড়িচালকরা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে কেবল মূল কর ও ফি জমা দিয়েই তাদের বকেয়া কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের জরিমানা বা অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সবাই নিরাপদে ও সহজ শর্তে তাদের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন করে নিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সুযোগের আওতায় কেবল একটি নির্দিষ্ট কাগজ নয়, বরং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের হালনাগাদ করার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করার বিষয়টি রয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন সময়মতো হালনাগাদ করার সুযোগও থাকছে এই নির্ধারিত সীমার ভেতরে।
ফিটনেস ও ট্যাক্স-টোকেনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন গাড়ির রুট পারমিট নবায়নের কাজটিও এই সুবিধার আওতায় সম্পন্ন করা যাবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিনের জট এড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রুট পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে গাড়িচালকরা এখন নির্দিষ্ট কর ও ফি পরিশোধ করে সহজেই তা নবায়ন করতে পারবেন।
শুধু গাড়ির কাগজপাতিই নয়, এর পাশাপাশি পেশাদার ও অপেশাদার চালকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টিও এই প্রজ্ঞাপনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনেক চালক সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারায় আইনি জটিলতা বা জরিনার মুখে পড়েন। বর্তমান এই বর্ধিত সময়ের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীরাও কোনো জরিমানা ছাড়াই তাদের লাইসেন্স হালনাগাদ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন।
অর্থ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ রোববারে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেছে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের ফলে দেশের সাধারণ মোটরযান মালিক এবং চালক সমাজ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ঝামেলা ছাড়াই তাদের যানবাহন ও ব্যক্তিগত লাইসেন্স সঠিক নিয়মের মধ্যে রাখতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের আগেই এই সুযোগ গ্রহণ করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো যেতে পারে।








