জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট চালু হয়নি
প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ শেষ হলেও স্থায়ী জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এতে স্থানীয় তরুণদের কারিগরি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থমকে রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের দিকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুনে। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও এখনো এর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। মূলত স্থায়ী জনবল নিয়োগ এবং চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না।
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি যথাযথভাবে হস্তান্তর করেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকেও প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে। তা সত্ত্বেও কেবল স্থায়ী জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক চূড়ান্ত অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী জনবল নিয়োগ না হওয়ায় আপাতত মাত্র একজন লোক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবন ও অন্যান্য জিনিসপত্র দেখভাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি বস্ত্র অধিদপ্তর থেকে এখনো জনবলের চূড়ান্ত চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়নি, যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়াও থমকে আছে।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালু করা উচিত বলে মনে করেন আব্দুল সামাদ। একই ধরনের মত প্রকাশ করে ছদরুল ইসলাম বলেন, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার নতুন দুয়ার খুলবে।
বর্তমান বাজারে পোশাক ও বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, এটি দ্রুত চালু হলে স্থানীয় তরুণরা স্বল্প খরচে যুগোপযোগী শিক্ষা পেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ এবং শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপটেও এই কারিগরি ইনস্টিটিউটের গুরুত্ব অপরিসীম।
অবকাঠামোগত সব প্রস্তুতি এবং কারিগরি বোর্ডের অনুমোদন থাকার পরও কেবল প্রশাসনিক ও জনবল সংক্রান্ত জটিলতায় একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থমকে থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বস্ত্র অধিদপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং স্থায়ী জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।








