চুয়াডাঙ্গায় অপচিকিৎসায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচারের পর সোহাগী খাতুন নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত ০৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরী সোহাগী খাতুনের মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট সোহাগীকে জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন ডা. রফিকুল ইসলাম। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় এই কিশোরীকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত গত ০৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার ও স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই অকাল মৃত্যু ঘটেছে।
মৃত স্কুলছাত্রীর বাবা মোমিনুর রহমান মণ্ডল এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার মেয়ে অপচিকিৎসা ও ডাক্তার-নার্সদের অবহেলার কারণে মারা গেছে। আর যেন কোনো বাবার আদরের সন্তান এভাবে মারা না যায়।" তার এই আর্তনাদে বিচার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন ডা. আওলিয়ার রহমান, ডা. এহসানুল হক তন্ময়, ডা. এম. এম. রাইসুল ইসলাম এবং ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ।
গঠিত এই তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিبসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না এবং কার কি দায় রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।








