চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সংযোগ সড়কহীন লুধুয়া সেতুতে চরম ভোগান্তি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর নির্মিত ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সেতুটির কাজ গত জানুয়ারিতে শেষ হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে বাঁশ ও কাঠের মই বেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছেন ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর নির্মিত লুধুয়া সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশل বিভাগের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে নির্মিত এই সেতুটির নির্মাণকাজ গত জানুয়ারিতে শেষ হলেও এর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হয়নি। প্রথম আলোর তথ্যানুযায়ী, সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার লোক চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা কোনো কাজেই আসছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪১ ফুট দীর্ঘ ও ২২ ফুট চওড়া এই সেতুটি নির্মাণে মোট ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় মূল সেতুটি নদীর ওপর বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
সংযোগ সড়ক না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। মূল সেতুর উচ্চতা অনেক উঁচুতে হওয়ায় এবং সংযোগ সড়ক না থাকায় সড়ক থেকে মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি সেতুতে উঠতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা সেতুর দুই প্রান্তে বাঁশ ও কাঠের মই লাগিয়ে কোনোমতে চলাচল করছেন।
এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রুদ্র চন্দ্র নিজের কষ্টের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলে, 'মই বাইয়া প্রতিদিন সেতুতে উইঠা আমাগো স্কুলে আওন লাগে। মইতে উঠলেই ঝাঁকুনি লাগে। খুব ভয় ও কষ্ট অয় তহন। সেতুতে উঠতে গিয়া নিচে পইড়াও কয়েকবার ব্যথা পাইছি। একজনের হাতও ভাঙছে।' তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে প্রতিদিন কী পরিমাণ ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষালয়ে যাতায়াত করছে।
শুধু শিক্ষার্থীই নয়, এলাকার সাধারণ মানুষও একই রকম চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জানিবুল হক, রিপন পাটোয়ারী ও সোহেল আনোয়ারের মতো সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোটি টাকার ওপরে সরকারি অর্থ খরচ করে সেতু বানানো হলেও সঠিক তদারকি ও সংযোগ সড়ক না থাকায় জনকল্যাণমূলক এই কাজটি এখন মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগী পরিবহন কিংবা ভারী কোনো জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মই বেয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজ সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে লুধুয়া সেতুর দুই প্রান্তে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ১০টি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন।








