চলনবিলের বাঘমারা বিলে পদ্মফুলের সমারোহ, পর্যটকদের ভিড়
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বাঘমারা বিলে ফুটেছে হাজারো পদ্মফুল। প্রায় চার দশক পর ২০২০ সাল থেকে নিয়মিত ফোটা এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দূরদূরান্তের পর্যটকরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩২· ১ মিনিট পড়া

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শাকুয়াদীঘি এলাকার বাঘমারা বিলে প্রাকৃতিকভাবে ফুটেছে শত শত পদ্মফুল। চলনবিলের এই অংশে পদ্মের সমারোহ দেখতে গত শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমান। উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী, পদ্ম একটি বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। ঐতিহাসিকভাবে চলনবিল এলাকায় অতীতে বিভিন্ন প্রজাতির সপুষ্পক, ফার্ন, মস ও শৈবাল পাওয়া যেত। দীর্ঘ বিরতির পর এই বিলের রূপ বদলাতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এই জনপদে পদ্মের দেখা মিললেও মাঝখানে দীর্ঘ প্রায় চার দশক তা হারিয়ে গিয়েছিল। তবে ২০২০ সাল থেকে বাঘমারা বিলে নিয়মিতভাবে আবারও পদ্মফুল ফুটছে। স্থানীয় সংবাদকর্মী ও গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে চলনবিলের আয়তন ও ভূপ্রকৃতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ১৮২৭ সালে চলন বিলের জলমগ্ন অংশের আয়তন ছিল ৫০০ বর্গমাইলের ওপর। পরবর্তীতে ১৯০৯ সালে পরিচালিত চলনবিল জরিপের এক প্রতিবেদনে এর আয়তন দেখানো হয় ১৪২ বর্গমাইল। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে চলনবিলের জলমগ্ন এলাকা থাকে মাত্র ৮৫ বর্গকিলোমিটার। এছাড়া চলনবিল এলাকার মধ্যে বিভিন্ন নামে ১ হাজার ৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল রয়েছে।
এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গত শনিবার বাঘমারা বিলে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তাঁদেরই একজন উজ্জ্বল কুমার মাহাতো। দর্শনার্থী উজ্জ্বল কুমার মাহাতো অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, 'অনেক দিন ধরে এই বিলের পদ্মফুলের সৌন্দর্যের কথা শুনে আসছি। দেখতে এসে বিমোহিত।' তাঁর মতো অনেক পর্যটকই নৌকা নিয়ে বিলের ভেতরে ঘুরে ঘুরে পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং ছবি তোলেন।
পদ্মফুলের এই আকস্মিক ও সুন্দর উপস্থিতি শুধু পর্যটকদেরই টানছে না, স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন মহলেও সাড়া ফেলেছে। ধানগড়া মহিলা কলেজের শিক্ষক ও গবেষক এম এ হামিদ এবং স্থানীয় বাসিন্দা সনাতন কুমার দাশ, উম্মে নাফসুন ও রফিকুল ইসলামের মতো স্থানীয় সুধীজনরা এই বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মনে করেন, চলনবিলের এই প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বাঘমারা বিলের পদ্মফুল দেখতে আসা পর্যটকদের ভিড় ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তাড়াশ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান এই প্রসঙ্গে বলেন, 'এই পদ্ম বিলের কথা শুনেছি। ফুল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
প্রথম আলো পত্রিকার সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য অনুযায়ী চলনবিলের এই বাঘমারা বিলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বাঘমারা বিলের এই পদ্মবন চলনবিলের পর্যটন শিল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।








