চমেক হাসপাতালে মেঝেতে থাকা রোগীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ তার
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। আর এই রোগীদের ওপর দিয়েই টানা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড ও রেডিওলজি ওয়ার্ডের মাঝখানের করিডোর বা মেঝেতে শয্যা পেতে চিকিৎসা নেওয়া ১০ থেকে ১২ জন রোগীর ওপর দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগের তার টানানো হয়েছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ও তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে অবস্থান করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতরের শয্যাগুলো রোগীতে পূর্ণ থাকায় মেঝেতে ঠাঁই নেওয়া এসব মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
চিকিৎসার এই নূ্ন্যতম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গিয়ে রোগীর স্বজনেরা এক অভিনব ও বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁরা মেডিসিন ওয়ার্ডের ভেতর থেকে মূল মাল্টিপ্লাগের সংযোগ এনে বাইরে মেঝেতে থাকা রোগীদের জন্য ব্যবহার করছেন। এই দীর্ঘ ও অরক্ষিত তারের মাধ্যমে মূলত বৈদ্যুতিক পাখা ও নেবুলাইজার চালানো হচ্ছে।
মেঝেতে শুয়ে থাকা রোগীর স্বজন জুয়েল শীলসহ অন্যরা বাধ্য হয়েই এই বিপজ্জনক কাজটি করছেন বলে জানা গেছে। গরমে টিকতে না পেরে এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে নেবুলাইজার ব্যবহারের তাগিদে তাঁরা ওয়ার্ডের ভেতর থেকে তার টেনে এনেছেন, যা অসাবধানতাবশত যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।
রোগীদের এই উন্মুক্ত ও অরক্ষিত স্থানে ঝুলন্ত তারের নিচ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সামান্য ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকেই পুরো এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষও ওয়াকিবহাল রয়েছে। হাসপাতালের শয্যা সংকট এবং রোগীর স্বজনদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, 'হাসপাতালে শয্যার তুলনায় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বেশি থাকে। ওয়ার্ডে রাখতে না পারলেও তাঁদের সেবা নিশ্চিত করতে হয়। রোগীর স্বজনেরা বিষয়টি না বুঝেই এভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেন। এতে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করবে।'








