চট্টগ্রামের খসড়া পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে যানজট নিরসনে মেট্রোর বদলে আধুনিক বাস ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছে। খসড়াটি মতামত ও পরামর্শের জন্য ৬০ দিন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসন এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পক্ষ থেকে একটি খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এই খসড়া পরিকল্পনাটিতে বন্দর নগরীর যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকাশিত এই খসড়া মহাপরিকল্পনায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল বা মনোরেল নির্মাণের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বাস–ব্যবস্থা, বাস রুট পুনর্বিন্যাস এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালুর সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রণয়ন করা এই খসড়া ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য এবং প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই বিষয়ে মো. আবু ঈসা আনছারী জানান, চট্টগ্রামের জন্য প্রণয়ন করা নতুন ট্রাফিক ও পরিবহন মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বন্দর নগর চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে একটি সমন্বিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে যানজট ও দুর্বল অবকাঠামোর মতো সমস্যাগুলো দূর করতে স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, গণপরিবহনের আধুনিকায়ন, নৌপথ ও রেলপথের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণ ও অংশীজনদের মতামতের বিষয়টি মাথায় রেখে এই মহাপরিকল্পনা উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই খসড়া মহাপরিকল্পনাটি মতামত, আপত্তি ও পরামর্শের জন্য ৬০ দিনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন।
এদিকে সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবহন মাস্টারপ্ল্যানসহ মেট্রোরেলের সমীক্ষার প্রিলিমিনারি সার্ভে কাজসংক্রান্ত’ ৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটিতে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) অর্থায়ন করছে।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে সিডিএ-র এই খসড়া মহাপরিকল্পনা এবং ডিটিসিএ-র চলমান সমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দর নগরীর যোগাযোগ খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।








