চট্টগ্রামে পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক বাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর ও এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এক নারী এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রথমে নিজেদের পুলিশ এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই নারীর বাসায় প্রবেশ করেন। বাসায় ঢুকেই তারা ঘর তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে তারা ওই নারী এবং তাঁর দুই পুত্রবধূর গোপনে ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিও ধারণ করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই নারীর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাঁরা হুমকি দেন যে, দাবি করা এই চাঁদার টাকা না দিলে ওই নারীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বাসায় ভাঙচুর চালান। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁদের সঙ্গেও হুমকিমূলক আচরণ করেন।
পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে হালিশহর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালায়।
এ ঘটনায় পুলিশ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সাখাওয়াত হোসেনের বয়স ৪০ বছর এবং মো. মাইনউদ্দিনের বয়স ৪৬ বছর। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও একটি মুঠোফোন জব্দ করেছে।
হালিশহর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬), বাবুল (৩৬) এবং জয়নাল আবেদিন মণ্ডল। পুলিশ জানিয়েছে, ৫৫ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








