চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৩শ ৩২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মহিন উদ্দিনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩২ বছর বয়সী মহিন উদ্দিন মারা গেছেন। তিনি সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং চকবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা করতেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহিন উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। গত বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং বর্তমানে চকবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রথম আলো পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মহিন উদ্দিনের বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার মহিন উদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহিনের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান, 'আমি হাসপাতালে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভাই মারা যায়। একবার কথাও বলতে পারিনি।'
ব্যবসায়িক জীবনে মহিন উদ্দিন বেশ সফল ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একে একে সাতটি কাপড়ের দোকানের মালিক হন। প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁর ব্যবসা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। চার ভাইবোনের মধ্যে মহিন উদ্দিন ছিলেন সবার ছোট। শূন্য থেকে শুরু করে তিনি নিজের প্রচেষ্টায় একটি সচ্ছল ও সুখের সংসার গড়ে তুলেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মহিন উদ্দিন তিন সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রাজিয়ার বয়সও ৩২ বছর। তাঁদের সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলের বয়স ছয় বছর এবং দুই মেয়ের বয়স যথাক্রমে চার ও দুই বছর। আকস্মিক এই মৃত্যুতে তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাভিভূত রাজিয়া সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'একসঙ্গেই পরিবারে সুখ আনতে চেয়েছি। সফলও হয়েছি দ্রুত। এত তাড়াতাড়ি ও আমাকে ছেড়ে যাবে, ভাবতেই পারছি না। অনেক সংগ্রামে আমাদের সুখের সংসার হয়েছিল। শূন্য থেকেই সব করেছি। এখন ও ছাড়া আমাদের আর আমাদের ছেলেমেয়েদের কী হবে, জানি না।'
মহিন উদ্দিনের এই অকাল মৃত্যুতে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে এমন একজন তরুণ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ীর মৃত্যু এলাকাবাসীকেও নাড়া দিয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী ও তিন অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।








