গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে অফিসের পোশাকবিধি ও জনমত
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকাল আরও উষ্ণ হওয়ায় অফিসের পোশাকবিধি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ইপসোসের এক জরিপে গরমের দিনে অফিসে শর্টস পরা নিয়ে জনমতের চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া টোকিওতে পুরুষদের স্যুট বাদ দিয়ে শর্টস পরার আহ্বান জানানো নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকালে আরও তীব্র, ঘনঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গরমের সময়ে কর্মক্ষেত্রে কী ধরনের পোশাক পরা উচিত এবং তা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ড্রি ও টোকিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, উষ্ণ আবহাওয়া সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে ইয়াসমিন রুফো এই বিষয়ে গ্রীষ্মকালীন অফিস পোশাকের নির্দেশিকা ও জনমত তুলে ধরেছেন। জাপানের রাজধানী টোকিওতে কর্মকর্তারা পুরুষ কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে স্যুট ছেড়ে শর্টস পরার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। তবে এই পদক্ষেপের ফলে পুরুষদের লোমশ পা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
অফিসে গরমের দিনে পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের পরিচালিত একটি জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপটিতে দেখা গেছে, গরম আবহাওয়ায় পুরুষদের কর্মক্ষেত্রে শর্টস পরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন ৬২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার সামান্য বেশি, অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শর্টস পরার পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে সব ধরনের গ্রীষ্মকালীন পোশাক নিয়ে মানুষের মনোভাব এক রকম নয়। ইপসোসের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জানিয়েছেন যে, কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য ফ্লিপ-ফ্লপ বা খোলামেলা স্যান্ডেল পরা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। নারীদের ক্ষেত্রেও ৫৯ শতাংশ বা প্রায় একই ধরনের মানুষ কর্মক্ষেত্রে ফ্লিপ-ফ্লপ পরার বিরোধিতা করেছেন।
অন্যদিকে, স্লিভলেস বা ট্যাঙ্ক টপ পরার বিষয়ের ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে মতের বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ট্যাঙ্ক টপ বা ভেস্ট টপ পরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৪ শতাংশে নেমে আসে, যারা পুরুষদের জন্য এমন পোশাককে কাজের জায়গায় মানসম্মত বলে মনে করেন।
এই বিষয়ে কনর নামের এক ব্যক্তি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, আপনি কী পরছেন তা নিয়ে কার কী যায় আসে? তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, যদি আপনি নিরাপদে, পেশাদার ও যথাযথভাবে আপনার কাজ করতে সক্ষম হন, তবে কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে দেওয়ার পক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে।
পোশাকের মার্জিত ভাব বজায় রাখার বিষয়ে ডিজাইনার আমান্ডা ওয়েকলে সতর্ক করে বলেছেন, আপনার যদি মনে প্রশ্ন জাগে যে পোশাকটি কি খুব বেশি ছোট, তবে সম্ভবত সেটি আসলেই বেশি ছোট। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের পোশাক তাৎক্ষণিকভাবে পেশাদারিত্বের চেয়ে অবকাশ যাপনের বার্তা দেয় এবং সবচেয়ে গোছানো পোশাককেও অনুচিত বা আন্ডারড্রেসড মনে করাতে পারে।
গরমের দিনে পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নাতাসিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মত প্রকাশ করে বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে যখন গরম থাকে, তখন হাত খোলা রাখা বা হাত কাটা পোশাক পরা ঠিক হওয়া উচিত। এভাবে গরমের দিনে স্বাচ্ছন্দ্য ও পেশাদারিত্বের ভারসাম্য কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়ে জনমত ও কর্মক্ষেত্রের নীতিমালায় নানা মতপার্থক্য বজায় রয়েছে।








