গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি সই
গ্রিস ও ইসরায়েলের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সই হওয়া এই চুক্তির আওতায় গ্রিস উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা সংগ্রহ করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে এথেন্স।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গ্রিস এবং ইসরায়েল সরকারের মধ্যে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো ইসরায়েলের তৈরি বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'অ্যাচিলিস শিল্ড' অর্জন করা। এর মাধ্যমে গ্রিসের আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই অত্যন্ত আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রিস সরকার। এর ফলে দেশটির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
অ্যাচিলিস শিল্ড ছাড়াও এই চুক্তির আওতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের চুক্তি হয়েছে। গ্রিস অতিরিক্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর ড্রোন প্রতিরোধী 'ড্রোন ডোম' ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে ইসরায়েলের সঙ্গে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
এই বিশাল সামরিক কেনাকাটার পেছনে সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের সম্পূর্ণ সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে গ্রিস। এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ইসরায়েলের সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর বাইরেও গ্রিসের সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই সামগ্রিক সামরিক আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পূর্বেও বড় ধরনের সামরিক চুক্তির তথ্য সামনে এসেছে। গ্রিসের সামরিক বাজেট ও পরিকল্পনায় এর আগে ২ হাজার ৮০০ কোটি ইউরো ব্যය করার কথা বলা হয়েছিল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের আওতায় গ্রিস অতীতে ৪০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিল। তবে ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সই হওয়া সর্বশেষ এই চুক্তিটি ইসরায়েলের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।
এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে গ্রিস ও ইসরায়েলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতো ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে এই অস্ত্র চুক্তি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির মূল ভিত্তি হলো গ্রিস সরকারের ২০৩০ সালের সামরিক আধুনিকায়ন লক্ষ্যমাত্রা।
সব মিলিয়ে, ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এই ৩৫০ কোটি ডলারের চুক্তি গ্রিসের প্রতিরক্ষা খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ইসরায়েলের 'অ্যাচিলিস শিল্ড' এবং 'ড্রোন ডোম' ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার ফলে গ্রিসের আকাশ প্রতিরক্ষা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষিত হবে। এথেন্স ও তেল আবিবের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।








