গ্যাস সংকট সমাধানে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরামর্শ
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার গ্যাস পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পেট্রোলিয়াম জিওফিজিক্সে পিএইচডি ডিগ্রিধারী আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং উত্তরণের নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন শুভ্র কান্তি দাশ।
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে আমদানীকৃত এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতের এই সংকট থেকে উত্তরণে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই ভূতত্ত্ববিদ। তিনি জানান, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস আবিষ্কার করেছে। তবে দেশের মাটির নিচে ও অফশোরে এখনো বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়ে গেছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি।
নতুন গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি সম্ভাবনাময় কাঠামো শনাক্ত করা হয়েছে। এসব কাঠামোতে ঠিকমতো অনুসন্ধান ও কূপ খনন করা গেলে প্রায় ১৫ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০টি কূপ খননে মোট খরচ হবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বিনিয়োগ ও প্রাপ্তির হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে সামগ্রिकভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলে সেখান থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার গ্যাস মিলতে পারে। অর্থাৎ, এই খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত লাভজনক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে কূপ খননের সফলতার হার অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন এই গবেষক। তিনি জানান, বাংলাদেশে কূপ খননে সফলতার হার প্রায় ৩:১, যা আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সুপরিকল্পিতভাবে এগোলে বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, নতুন এই গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে যদি মোট ১০ টিসিএফ গ্যাস পাওয়া যায়, তবে দেশের বর্তমান ১৮ টিসিএফ গ্যাসের মজুত আরও বৃদ্ধি পেয়ে বড় আকারে দাঁড়াতে পারে। এই বর্ধিত মজুত দিয়ে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত দেশে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








