গোবিপ্রবি বন্ধুসভার উদ্যোগে 'সংশপ্তক' নিয়ে পাঠচক্র
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদুল্লা কায়সারের 'সংশপ্তক' উপন্যাস নিয়ে একটি পাঠচক্রের আসর করেছে গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ৪ সেপ্টেম্বর এই পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৭:৪৬· ১ মিনিট পড়া

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহীদুল্লা কায়সারের বিখ্যাত 'সংশপ্তক' উপন্যাস নিয়ে একটি বিশেষ পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর এই সাহিত্যভিত্তিক পাঠচক্রের আয়োজন করে গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই পাঠচক্রের আসরটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আলোচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম শহীদুল্লা কায়সারের 'সংশপ্তক' উপন্যাসের পটভূমি অত্যন্ত বিস্তৃত। এই উপন্যাসের সময়কাল ও পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রাক্কাল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপন্যাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পাঠচক্রের আলোচনায় উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। এই উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় বা রূপায়ণ করা চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হুরমতি, রমজান, সেকান্দর মাস্টার, জাহেদ, রাবু এবং ফেলু মিয়া। লেখক শহীদুল্লা কায়সার তাঁর এই কালজয়ী উপন্যাসে সমাজের নানা স্তরের মানুষের জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তুলেছেন।
আলোচনা চলাকালীন উপন্যাসের বিভিন্ন বিখ্যাত পঙ্ক্তি ও সংলাপের প্রসঙ্গও সামনে আসে। পাঠচক্রে উদ্ধৃত করা হয় যে, 'মানুষের মুক্তিই আমার একমাত্র কামনা।' এই ধরনের সংলাপ উপন্যাসের গভীরতা এবং এর অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করে।
উপন্যাসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভ ও প্রশ্ন। পাঠচক্রে আলোচনা করা হয় এই সংলাপটি—'আমরা কি শুধু মার খেয়েই যাব? প্রতিরোধ করার কি আমাদের কোনো শক্তি নেই?' এই প্রশ্নটি তৎকালীন সমাজের সাধারণ মানুষের অবস্থাকে তুলে ধরে।
এছাড়া সমাজের অন্ধকার দিক এবং তা থেকে মুক্তির উপায় নিয়েও কথা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে, 'অন্ধকারের শক্তিকে পরাজিত করতে হলে আলোর মশাল জ্বালাতে হবে।' এই বক্তব্যের মাধ্যমে উপন্যাসটির আশাবাদী দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়।
দারিদ্র্য ও বাস্তবতার নির্মম সত্যতাও এই উপন্যাসের সংলাপে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, এক পর্যায়ে বলা হয়েছে—'পেটের দায়ে কত কিছুই তো করতে হয় মা।' এছাড়া ক্ষমতার দাপট ও দুর্বলদের অবস্থান নিয়ে বলা হয়, 'এ দুনিয়ায় দুর্বলদের কোনো স্থান নেই' এবং 'ক্ষমতা থাকলে সবই সম্ভব।' এসব বহুমুখী আলোচনার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গোবিপ্রবি বন্ধুসভার আয়োজিত পাঠচক্রের আসরটি শেষ হয়।








