জাবিতে জহির রায়হানের 'আর কত দিন' উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার আয়োজনে কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর 'আর কত দিন' উপন্যাস নিয়ে একটি পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষে এই পাঠচক্রের আসরটি বসে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার আয়োজনে একটি বিশেষ পাঠচক্রের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই জন্মবার্ষিকী এবং জীবন ও কর্মকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
গত ২০ আগস্ট বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ১০ নম্বর কক্ষে এই পাঠচক্রের আসরটি বসে। জহির রায়হানের বিখ্যাত সৃষ্টি ‘আর কত দিন’ উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে এই পাঠচক্রের আয়োজন করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। আসরে উপস্থিত বক্তারা ও অংশগ্রহণকারীরা এই উপন্যাসের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে পারভেজ মোশারফ উপন্যাসটির মূলভাব তুলে ধরে বলেন, ‘আর কত দিন’ পড়লে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাধারণ মানুষের জীবন ও মানসিক অবস্থাকে কাছ থেকে অনুভব করা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জহির রায়হান শুধু ইতিহাসের ঘটনাগুলো তুলে ধরেননি, সেই সময়ের মানুষের স্বপ্ন, ভয়, কষ্ট ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষকেও সাহিত্যের মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছেন।
আরেক বক্তা সৈয়দ সালমান হাসান তাঁর বক্তব্যে জহির রায়হানের স্মরণের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, জহির রায়হানের মতো একজন লেখকের জন্মদিনে তাঁর লেখাপড়ার মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহিত্য আমাদের শুধু একটি সময়ের গল্প বলে না, বরং সেই সময়ের মানুষ, সমাজ ও স্বপ্নের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তরুণদের মধ্যে এমন পাঠচর্চা যত বাড়বে, ইতিহাস ও সমাজকে বোঝার সুযোগও তত গভীর হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এই পাঠচক্রের আয়োজনে বন্ধুসভার আরও অনেক সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার হোসেন, সিফাত আরেফিন, মারিয়া মুরাদ, অরুণিমা পাল এবং সিফাত আহমেদ। তাদের সক্রিয় উপস্থিতিতে এবং আলোচনা ও পঠন-পাঠনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণ প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য ও ইতিহাস চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়েছিল। কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানের জীবনদর্শন এবং তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীরতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার এই উদ্যোগটি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।








