গুলশানে ওয়াসার জমিতে ভবন নির্মাণে টিআইবির গভীর উদ্বেগ
রাজধানীর গুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আইন ও নীতিকাঠামোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর গুলশানে ঢাকা ওয়াসার মালিকানাধীন ১১৪ কাঠা জমিতে একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে কোনো ধরনের যথাযথ নিয়ম বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক থেকে এই মূল্যবান জমিটি ঢাকা ওয়াসার অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অথচ জনস্বার্থে ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও, সেই জমি এখন অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পাঁয়তারা চলছে। একটি বেসরকারি রিয়েল এস্টেট বা আবাসন কোম্পানি এই জমিতে একটি আবাসিক কাঠামো নির্মাণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে ওয়াসার কাছে।
এই পুরো ঘটনাটির পেছনে বড় ধরনের অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল একটি সম্পত্তিতে ওয়াসা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতিকাঠামোর এক সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও মনে করেন যে, যথাযথ নিয়ম এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তি বা উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা জনস্বার্থের পরিপন্থী। ওয়াসা একটি সেবাধর্মী সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তাদের মূল্যবান সম্পত্তি এভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, টিআইবির পক্ষ থেকে এমন জোরালো আপত্তির পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানামুখী আলোচনার জন্ম হয়েছে। তবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংবাদমাধ্যমকে বা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন যে, এই প্রস্তাবটি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়ে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব স্বার্থ বজায় রেখেই এই বিষয়ে পরবর্তী সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে এমন যেকোনো বাণিজ্যিক বা আবাসন প্রকল্প জনস্বার্থের পরিপন্থী বলেই মনে করে সুশীল সমাজ। গুলশানের মতো এলাকায় ১১৪ কাঠা জমির মতো বিশাল এবং মূল্যবান একটি সম্পত্তি নিয়ে চলা এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং ওয়াসা কর্তৃপক্ষ টিআইবির উদ্বেগের কী ধরনের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








