কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে থাকা ১৬ কোটি টাকা ফেরতের উদ্যোগ
দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য জমা দেওয়া ১৯৪ বাংলাদেশিসহ ২২৫ শিক্ষার্থীর প্রায় ১৬ কোটি টাকা ফেরত পেতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অফার লেটার অনুযায়ী ভিসা না হওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাকা ফেরত না দেওয়ায় আইনজীবীরা সিউলে গিয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য জমা দেওয়া প্রায় ১৬ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রιয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত আইনজীবীরা বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য মোট ২২৫ জন শিক্ষার্থী টিউশন ফি বাবদ সর্বমোট ১৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৪ জনই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ জন নেপালের নাগরিক এবং ৩ জন পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে বিপাকে পড়েন এসব শিক্ষার্থী। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন হোঁচট খায়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা অফার লেটারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে টিউশন ফি সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই টাকা ফেরত দেয়নি। উল্টো পরিস্থিতি জটিল করে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুঁই। গত ২০ মে তারা সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠান।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অফার লেটার অনুযায়ী ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, "অফার লেটার অনুযায়ী ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে কোরিয়ার উপযুক্ত আদালতে শিক্ষার্থীদের পাওনার দাবি সংক্রান্ত আবেদন জমার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।"
বর্তমানে আইনজীবীরা দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে কোরিয়ার উপযুক্ত আদালতে শিক্ষার্থীদের পাওনার দাবি সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।








