কুমারখালীর একমাত্র খেলার মাঠটি জলমগ্ন ও কচুরিপানায় পূর্ণ
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা পরিষদের একমাত্র খেলার মাঠটি প্রায় এক দশক ধরে জলাবদ্ধতা ও কচুরিপানার দখলে রয়েছে। অপরিকল্পিত স্থাপনা ও পুকুর খননের কারণে পানির স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের খেলাধুলা ও সামাজিক আয়োজন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা পরিষদের একমাত্র খেলার মাঠটি গত প্রায় এক দশক ধরে জলাবদ্ধতা ও কচুরিপানার দখলে রয়েছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ Is জানা যায়, মাঠের আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা ও পুকুর খননের কারণে পানির স্বাভাবিক পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বছরের প্রায় আট মাস এই মাঠে জলাবদ্ধতা থাকে এবং এর ফলে ঈদগাহের মিনার পর্যন্ত ডুবে থাকে। মাঠের বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিকেলে মাঠে যাওয়ার কথা থাকলেও মাঠের এমন অবস্থার কারণে তরুণদের ভিন্নভাবে সময় কাটাতে হয়। এ বিষয়ে শ্রাবণ মাহমুদ বলেন, 'বিকেলে মাঠে খেলার কথা। কিন্তু মাঠে হাঁটু পানি, কচুরিপানা। সেজন্য মোবাইল চালাচ্ছি।'
মাঠটির এমন করুণ অবস্থা একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলার ফসল। এই মাঠের অতীত সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করে শাহরিয়ার জাবিদ জানান, 'আগে এখানে টুর্নামেন্ট হতো। সারাদিন খেলা চলতো। বিগত ৮-১০ বছর ধরে শুধু পানি আর কচুরিপানা।' স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যার কথা বারবার বলা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মো. শফি উদ্দিন বলেন, 'প্রতি বছর শুনি বরাদ্দ এসেছে, কয়েক গাড়ি বালুও ফেলে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এমপি, চেয়ারম্যান ও এলাকার নেতাকর্মী কারও নজর নেই এদিকে।'
খেলাধুলার পরিবেশ না থাকায় তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। লিটন আব্বাস বলেন, 'বছরে শুধু একবার কোনোমতে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়। কিন্তু সবসময় খেলার সুযোগ না থাকলে নতুন প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা কঠিন।' শুধু খেলাধুলাই নয়, মাঠটি বন্ধ থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে অন্যান্য কার্যক্রমও। লিটন আব্বাস আরও যোগ করেন, 'শুধু খেলাধুলাই নয়, বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতও। বন্ধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সব আয়োজন।'
ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি থেকে অতীতে বহু কৃতি খেলোয়াড় বেরিয়ে এসেছিলেন, যা এখন শুধুই স্মৃতি। বসির উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, 'এ মাঠ থেকে অনেক নামিদামি খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। তারা জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে খেলেছে। ১৫ - ২০ বছর আগে খেলাধুলায় মুখরিত থাকত এখানকার ছেলেমেয়েরা। এখন পানির জন্য সবকিছু থমকে গেছে।' তিনি দ্রুত মাঠটি সংস্কারের দাবি জানান। আকরাম হোসেন জানান, 'এক সময় এই মাঠেই হতো উপজেলা প্রশাসনের সব বড় অনুষ্ঠান। স্থানীয় উদ্যোগে বছরে কয়েকটি ফুটবল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হতো। মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। কিন্তু পরিকল্পিত সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মাঠটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।' তিনি এই মাঠের গৌরব ফেরাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। উল্লেখ্য, এই মাঠের আশপাশে রয়েছে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুমারখালী আদর্শ মহিলা বিদ্যালয়, আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম, কুমারখালী সরকারি কলেজ, দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কুমারখালী নাগরিক কমিটি।
জনসাধারণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, মাঠের বিষয়টি তারা জানেন এবং এটি কুমারখালীবাসীর আবেগের জায়গা। তিনি আরও জানান যে, আগামী অর্থবছরের বরাদ্দ পেলে খুব দ্রুত সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হবে।








