কুবি ক্যাফেটেরিয়ার পানির ফিল্টার নষ্ট, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ার পাঁচটি পানির ফিল্টারের মধ্যে চারটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট রয়েছে। এর ফলে সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে অনিরাপদ পানি পান করছেন, যা থেকে পানিবাহিত রোগের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাফেটেরিয়ায় থাকা মোট পাঁচটি পানির ফিল্টারের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অথচ এই ক্যাফেটেরিয়ার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা নির্ভরশীল। ফিল্টারগুলো সচল না থাকায় এই বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ফিল্টারগুলো নষ্ট থাকার বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়া সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে থাকা ফরিদ উদ্দিন জানান, ফিল্টারগুলো নষ্ট থাকার বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার দরখাস্ত দিয়ে জানানো হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য আসার আগেই তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনকে পাঁচটি দরখাস্ত দিয়েছেন। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনই ক্যাফেটেরিয়া পরিদর্শনে এলে তিনি নিজে তাকে ফিল্টারের অবস্থা দেখিয়েছেন। তাই ফিল্টার নষ্ট থাকার বিষয়টি প্রশাসন পুরোপুরি অবগত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী মাজারুল হক বলেন, ক্যাফেটেরিয়ার ফিল্টারটি বেশ কয়েক মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের অপরিশুদ্ধ পানি পান করতে হচ্ছে। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ফিল্টারগুলো মেরামত করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক। একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করে শিক্ষার্থী মো. আবু হানিফ জানান, বেশ কিছুদিন যাবৎ ক্যাফেটেরিয়ার খাবার পানির ফিল্টারটি নষ্ট থাকায় তাদের সাধারণ ট্যাংকের পানি পান করতে হচ্ছে এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রশাসন যেন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে খাবার পানির ফিল্টারটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রোগের আশঙ্কার বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, পানি যদি বিশুদ্ধ না হয়, তবে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, টাইফয়েড জ্বর এবং হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসের মতো পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে ফিল্টার মেরামত বা এর দায়িত্ব কার, তা নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে টানাপোড়েন লক্ষ করা গেছে। মো. হারুন জানান, এ বিষয়ে চাহিদা দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে। ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন এটার জন্য দায়িত্বশীল এবং তিনি তাদের এ বিষয়ে বারবার বলেছেন। কিন্তু তারা কেন এতদিন পর্যন্ত সাড়া দিচ্ছেন না, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানান। অন্যদিকে প্রকৌশল দপ্তরের এস. এম. শহীদুল হাসান বলেন, তারা যেহেতু এটি ক্রয় করেননি, তাই এটার কতদিনের ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টি ছিল তা বলতে পারবেন না এবং কারা এটি স্থাপন করেছে তাও তারা জানেন না। এখন তাদেরই ডাকতে হবে যারা মেশিনটি লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি স্যারকে বারবার বলেছেন এটি বাইরের লোক দিয়ে ঠিক করতে হবে। তারা ছাদের ট্যাংকি পরিষ্কার করেছেন, সাবমার্সিবল পাম্প ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেখছেন, কিন্তু ফিল্টার তাদের আওতার মধ্যে নেই এবং তাদের আওতার মধ্যে যা আছে তারা সবই করছেন।
অন্যদিকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, অবশ্যই পানির ফিল্টার চেঞ্জ করা দরকার এবং এগুলা করা অনেক আগেই উচিত ছিল। তিনি জানান যে তিনি তো বিষয়টি জানতেন না, আজকেই জেনেছেন। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, যদি পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে থাকে, তবে এটি ইমিডিয়েটলি রিপ্লেস করা দরকার। এ ব্যাপারে যদি প্রশাসনিক কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তবে তা তারা অবশ্যই করবেন বলে জানান।








