কিশোরগঞ্জে ক্ষমা চেয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ফেরত দিল চোর
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি চুরির ঘটনার পর অনুতপ্ত হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার ও ক্ষমাসূচক চিঠি ফেরত দিয়েছেন এক চোর। সোমবার রাতে চরফরাদী মাদরাসা থেকে সিলিন্ডারটি উদ্ধার করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায় এক চুরির ঘটনায় অভিনব ও চাঞ্চল্যকর এক বিষয়ের অবতারণা হয়েছে। চুরি করার পর নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে এক চোর গ্যাস সিলিন্ডার এবং একটি চিরকুট বা ক্ষমা চেয়ে লেখা চিঠি ফেরত দিয়ে গেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট ২০২৬, অর্থাৎ সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায় একটি চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ঠাকুরবাড়ির চা দোকানদার কামাল মিয়ার দোকান থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হয়ে যায়।
পরবর্তীতে চুরি যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডারটি এবং চোরের লেখা একটি ব্যাখ্যামূলক ও ক্ষমাসূচক চিঠি চরফরাদী মাদরাসা প্রাঙ্গণে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই পরে সিলিন্ডারটি উদ্ধার করা হয়।
চিঠিতে চোর তার অপরাধ স্বীকার করে লিখেছেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সর্বপ্রথম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কোনো পেশাদার চোর নই। কিন্তু ভুল করে চুরি করে ফেলছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না, অঙ্গীকার করছি।
চুরি করা জিনিসটি ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চুরির বিষয় নিয়ে এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন লোককে দোষারোপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা দেখে জিনিসটি ফেরত দিলাম। দয়া করে জিনিসটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।
মাদরাসায় সিলিন্ডারটি রেখে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে চোর লেখেন, জিনিসটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক ভেবে-চিন্তে দেখলাম, প্রকৃত মালিককে কোন কোন উপায়ে ফেরত দেওয়া যায়। অন্য কোনো উপায়ান্তর না দেখে মাদরাসায় রেখে গেলাম। তাছাড়া বিশ্বস্ত কোনো লোক বা উপায় পেলাম না। দয়া করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন। চিঠিতে আরও জানানো হয় যে, জিনিসটি ঠাকুরবাড়ির চা দোকানদার কামালের।
সবশেষে চিঠির শেষাংশে চোর অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, দয়া করে কাগজটি পেলে দেখে ছিঁড়ে ফেলবেন। ক্ষমাপ্রার্থী। এই পুরো ঘটনাটি জাগো নিউজ-এর মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় সৃষ্টি করে।








