কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় ১৬ গেট খোলা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অতিভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদ থেকে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিচু এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে স্থানীয় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। মূলত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন না করলে আরও বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা থাকায় এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পানির উচ্চতা পরিমাপ অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। এরপর রাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং রাত সোয়া ৮টায় হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদে ১০৫ দশমিক ৫৪ এমএলএম পানি রয়েছে বলে অন্য একটি উৎস থেকেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা হলো ১০৯ ফুট এমএসএল। পানির এই লাগাতার বৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে মোট ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
এদিকে হ্রদের পানি বৃদ্ধির কারণে রাঙ্গামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হ্রদের পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটক প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।








