কাপ্তাই হ্রদে সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ আহরণ শুরু
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পুনরায় মাছ আহরণ ও বিপণন শুরু হয়েছে। গত ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা শুরু হওয়ার পর প্রথম সাত দিনেই ২২৪ টন মাছ আহরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পুনরায় মাছ আহরণ, বিপণন ও পরিবহন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। কার্প জাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসন গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত হ্রদে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর গত ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ ধরা শুরু হয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর হ্রদ থেকে মাছ আহরণ ও বিপণন কেন্দ্রগুলোতে জেলে ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন মৎস্য উপকেন্দ্রে মাছ বিক্রি ও পরিমাপের কাজ চলছে নিয়মিতভাবে। কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, কাপ্তাই মৎস্য আহরণ উপকেন্দ্র এবং কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হ্রদ থেকে আহরিত এসব মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মাছ আহরণ শুরুর পর প্রথম সাত দিনে কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন মৎস্য উপকেন্দ্রে মোট ২২৪ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাছ আহরণের এই প্রাথমিক পর্যায়েই সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক অর্জন হয়েছে। গত সাত দিনে মাছ আহরণ ও বিপণনের মাধ্যমে সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। হ্রদভিত্তিক অর্থনীতিতে এই আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নিষেধাজ্ঞা শেষে হ্রদে মাছ আহরণের প্রথম সাত দিনের প্রতিদিনের হিসাব বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। প্রথম দিন অর্থাৎ গত ১০ আগস্ট ৫৩ দশমিক ১৯৮ টন মাছ আহরিত হয়। এরপরের দিনগুলোতে যথাক্রমে দ্বিতীয় দিন ৩৬ দশমিক ৯৭৮ টন, তৃতীয় দিন ২৬ দশমিক ৪৯৮ টন, চতুর্থ দিন ৩২ দশমিক ৭৮২ টন, পঞ্চম দিন ২৭ দশমিক ২৪৫ টন, ষষ্ঠ দিন ২৮ দশমিক ৪৯৭ টন এবং সপ্তম দিনে ১৯ দশমিক ৩২০ টন মাছ আহরিত হয়েছে।
হ্রদভিত্তিক মৎস্য ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতি নিয়ে কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির বেলাল হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, কাপ্তাই হ্রদের মাছের সুখ্যাতি দেশজুড়ে রয়েছে। তিনি জানান, দেশের দূর-দূরান্ত থেকে নামিদামি প্রতিষ্ঠান এখানে মাছ কিনতে আসছে। আশা করা হচ্ছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা ভালো লাভ করতে পারবেন।
এ ছাড়াও এই মাছ আহরণ ও বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জসীম উদ্দিন, ওমর আলী, সুবল দাস ও মো. আরব আলীর মতো স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা সবাই মিলে হ্রদের মাছ বিপণন কার্যক্রমকে সচল রাখতে কাজ করছেন। প্রশাসনের নজরদারি এবং সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে কাপ্তাই হ্রদের মাছের উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া বর্তমানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ পুনরায় শুরু হওয়ায় স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বেকার থাকা জেলেরা এখন পুরোদমে হ্রদে নেমেছেন। কার্প জাতীয় মাছের সঠিক বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত হওয়ায় আগামী দিনে হ্রদে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।








