ওমানকে ট্রাম্পের বোমা মারার হুমকির জেরে আইন আনছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা
ওমানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর দেশটির যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। এই পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে হুমকি দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানের উদ্দেশে এই হুমকি দেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমান যদি কোনও বাধা সৃষ্টি করে, তবে আমরা তাদের ওপর বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেব। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওমানের আচরণ তার ভালো লাগেনি, তবে অন্য সব কিছুর মতোই তাদের সহজেই সামলে নেওয়া যাবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওমানকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এই বিষয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্না অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, আমাদের হয়তো বাকি ১৯২টি দেশের জন্যই যুদ্ধ ক্ষমতার প্রস্তাব ফাইল করতে হবে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের একক এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।
ওমানকে নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনেটর টিম কেইনও। ওমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও চুক্তিগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিনেটর টিম কেইন বলেন, ওমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের এমন হুমকি রাশিয়া ও চীনের মতো আসল শত্রুদের সুবিধাই করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী মাসেই ওমানের বিষয়ে তিনি একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব আনবেন বলে জানিয়েছেন।
ওমানের বিষয়ে যখন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে এবং আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছেন, তখন হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি পারমাণবিক ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক ইরানের বিপদ নিয়ে বিশ্বরাজনীতিকরা বহু দশক ধরে শুধু কথাই বলেছেন। কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহস রয়েছে সরাসরি এই জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হওয়ার।
মার্কিন কংগ্রেসের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি আরও দাবি করেন যে, বর্তমান প্রশাসন এ পর্যন্ত কংগ্রেসকে অন্তত ৩০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক ব্রিফিং প্রদান করেছে। ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।








