এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের
সুপারইন্টেলিজেন্সের জন্য কোনো অ্যালাইনমেন্ট বা সামঞ্জস্য বিধানের সমাধান না পাওয়ায় এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ গবেষকরা। মার্কিন সরকারসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে স্বয়ংক্রিয় এআই উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষকরা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং এর উন্নয়নের গতি অবিলম্বে কমিয়ে আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ওপেনএআই-এর প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোস্কিসহ প্রখ্যাত গবেষকরা এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। প্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের মতে, বর্তমান প্রযুক্তির যে গতিপথ, তাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
এই উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুপারইন্টেলিজেন্স বা পরা-বুদ্ধিমত্তার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অ্যালাইনমেন্ট বা মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে এই প্রযুক্তির সঠিক সামঞ্জস্য বিধানের কার্যকর কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়নি। গবেষক ইভান হাবিঙ্গার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই মৌলিক সমস্যার সমাধান না করেই যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লাগামছাড়া বিকাশ ঘটতে দেওয়া হয়, তবে তা মানবসভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা মার্কিন সরকারসহ আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা স্বয়ংক্রিয় এআই উন্নয়নের বর্তমান গতিকে ধীর করার জন্য একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একযোগে কাজ না করলে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
এই দাবির সমর্থনে কেবল স্বতন্ত্র গবেষক বা ওপেনএআই-এর প্রধান বিজ্ঞানীর পক্ষ থেকেই আওয়াজ ওঠেনি, বরং বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরের কর্মীরাও এতে সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের ১,৩০০ জন কর্মীসহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা এই বৈশ্বিক চুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। কর্মী ও গবেষকদের এই যৌথ অবস্থান প্রমাণ করে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ভেতরের মানুষই এর নিয়ন্ত্রণহীন অগ্রগতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো দেখতে পাচ্ছেন।
স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট থেকে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করার জন্য এখনই সময়ক্ষেপণ না করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাকুব পাচোস্কি এবং ইভান হাবিঙ্গারের মতো গবেষকদের এই সতর্কবার্তা এবং অ্যানথ্রোপিকের ১,৩০০ জন কর্মীর সমর্থন বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের সমাধান না আসা পর্যন্ত এআই উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরা এবং একটি বৈশ্বিক চুক্তি স্বাক্ষর করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








