উন্মুক্ত হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস সেতু
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ফিতা কেটে এই সেতু দুটির উদ্বোধন করেন। নতুন এই সার্ভিস সেতু চালুর ফলে সাধারণ মানুষ এখন টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হতে পারবেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের একটি অংশের শুভসূচনা হলো। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ফিতা কেটে দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, শফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম এবং দীপংকর দাস উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন হওয়া এই নতুন সার্ভিস সেতু চালুর ফলে নগরবাসী ও যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি হয়েছে। নতুন এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে এখন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের টোল ছাড়াই খুব সহজে তুরাগ নদ পার হতে পারবেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, "আজকে যে অংশ চালু হয়েছে এটিসহ পুরো এক্সপ্রেসওয়ে টোল মুক্ত থাকবে। শুধু মাঝের চার লেন অংশটি টোল নেওয়া হবে।"
প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, তুরাগ নদের পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এই প্রকল্পে ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রতিটি সার্ভিস সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সামগ্রিক নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, নানা ধাপ পেরিয়ে এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে আশপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদী সুফল ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। শেখ রবিউল আলম এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "সহজভাবে যদি বলি, এই প্রকল্পটি খুবই দরকারি একটি প্রকল্প। ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের দেশের যোগাযোগটা একেবারে যানজটহীনভাবে নিশ্চিত করবে এই প্রকল্প।"
ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনবিশিষ্ট এই দুটি সার্ভিস সেতু উন্মুক্ত হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের ট্রাফিক জট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও আধুনিক হবে।








