উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারিতে নতুন নিয়ম জারি
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এখন থেকে যৌথ নামজারির জন্য আলাদা কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন হবে না।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে যদি কোনো ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা না হয়ে থাকে, তবে কোনো আলাদা খতিয়ান করা হবে না। এক্ষেত্রে একই খতিয়ানে সবার নাম যৌথভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, যৌথ নামজারির জন্য আলাদা করে কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে ভূমি অফিসগুলোর কার্যপদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ ছিল। এ প্রসঙ্গে মিজ হাসান জানান, 'আগে অনেক ভূমি অফিস বণ্টননামা না থাকলে যৌথ নামজারিও নামঞ্জুর করত। এখন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, শুধু এই কারণে আবেদন বাতিল করা যাবে না।'
তবে কোনো উত্তরাধিকারী যদি নিজের নামে সম্পূর্ণ আলাদা খতিয়ান করতে চান কিংবা পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করতে চান, তবে তার জন্য অবশ্যই নিবন্ধিত আপোষ-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে। দলিল ছাড়া একক খতিয়ান বা পৃথক কর পরিশোধের সুযোগ থাকছে না।
ইশরাত হাসান এই নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পেছনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, 'বণ্টননামা না থাকার অজুহাতে যৌথ নামজারি প্রত্যাখ্যান এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির রেকর্ড হালনাগাদ সহজ করতেই এই নির্দেশনা।'
বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ডিজিটাল আবেদন গ্রহণের পর ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। নতুন নিয়মের ফলে এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ আরও সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।








