ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান বা 'ইকোনমিক ডি-ডে' ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই ঘোষণায় ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোকেও কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা, এত ছাড় দেয়নি। এটা তাদের জন্য দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি।'
অভিযানের তীব্রতা সম্পর্কে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এ অভিযান এতটা বিধ্বংসী হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হয়নি। এটি হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর জেরে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
শুধু ইরানই নয়, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই ঘোষণায় ট্রাম্প ইরানকে সাহায্যকারী দেশগুলোকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমি যাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তারা তা বুঝেছে।'
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের সবচেয়ে বৃহৎ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে রয়েছে মোট ৬টি দেশ। এই দেশগুলো হলো— চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান। ট্রাম্পের এই নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের ফলে তেহরানের পাশাপাশি এই বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে 'ইকোনমিক ডি-ডে' হিসেবে পরিচিত এই বিধ্বংসী অর্থনৈতিক যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








