ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আঞ্চলিক সংঘাত
ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইরানের কুহেস্তাক ওসিরিক এলাকায় একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা আলী মোল্লাহির পরিবারের ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ ও টেলিযোগাযোগ টাওয়ারের চিত্র বিবিসি ভেরিফাইয়ের ভিডিও এবং ছবিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার শিকার আলী মোল্লাহি জানান, দুর্ভাগ্যবশত এটি একটি আবাসিক ভবন এবং তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি একে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্যাপ্টেন টিম হকিংস দাবি করেছেন যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করে না।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানের ওপর চালানো হামলাগুলোকে বড় ও শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেছেন। এই হামলার জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইনে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩টি নির্জন এলাকায় পড়েছে।
আঞ্চলিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রাথমিকভাবে ৫ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, আহভাজ ও আকাজারির আশপাশে তিনটি আলাদা মার্কিন হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কেরমানশাহে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের মহাকাশ বাহিনীর ৪ জন এবং লাভান দ্বীপে বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের ৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে সমুদ্রপথেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও এর আশপাশে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অপরিশোধিত তেল ট্যাংকার এসআইডিআর-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নিরাপত্তা ঘটনায় ২ জন ফিলিপিনো নাবিক নিহত হয়েছেন।
চলমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসমায়েল বাকায়ী, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, খাত্তাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই অঞ্চলে আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির নানা দিক তুলে ধরছে।
এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদের মধ্যে জারখাতুন তাহেরি, কোলসুম মোল্লাহি নাঝদনিয়া, মোহাম্মদ মোল্লাহি এবং আমির আলী করিমীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি এবং জর্ডানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও এই আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।








