থাইল্যান্ডের দক্ষিণে ৫০টিরও বেশি স্থানে সমন্বিত হামলা
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে শনিবার রাতে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। নারাথিওয়াত প্রদেশে বোমা বিস্ফোরণে দুজন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সাময়িক কারফিউ জারি করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে চলা এই সংঘাতে এর আগে ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে শনিবার স্থানীয় সময় রাত আটটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একযোগে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকক পোস্ট, বিবিসি এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য মতে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে ৫০টিরও বেশি স্থানে এই পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার খবর পাওয়া গেছে নারাথিওয়াত প্রদেশ থেকে। এছাড়া ইয়ালা ও পাত্তানি এলাকাতেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার তীব্রতা ও সহিংসতার কারণে নারাথিওয়াত প্রদেশের মুয়াং জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণে অন্তত দুজন নারী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো বড় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে নারাথিওয়াত প্রদেশে রাতভর সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে রোববার সকালে সেই কারফিউ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংঘাত চলে আসছে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই অঞ্চলে চলমান সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্বে মূলত রয়েছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন) নামক সংগঠনটি।
এর আগেও এই অঞ্চলে নানা ধরনের সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত জুলাই মাসে ঘটা সংঘাতে পাঁচ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। সাম্প্রতিক এই সমন্বিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ফলে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।








