ইরান যুদ্ধের জেরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে
রয়টার্স ও ইপসোসের নতুন জনমত জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জেরে এই সমর্থন কমেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। এছাড়া ৬৪ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের নতুন একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, তাঁর প্রতি সমর্থন কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই জনমত জরিপটি পরিচালিত হয়। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনরত ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
চার দিন ধরে চলা এই জনমত জরিপটি গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। এতে ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান—উভয় দলের ভোটারদের মধ্যেই ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে করা জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন জনগণের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমাগত কমছে। এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেও তাঁর সমর্থন ৩৩ শতাংশে নেমেছিল। নতুন এই জরিপের ভুলের সম্ভাবনা ৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিকভাবেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার ফলে বিশ্বে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা রয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭১ শতাংশ মানুষ এমনটা মনে করছেন। অন্যদিকে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে।
যুদ্ধের পেছনে যুক্তি ও এর মূল্য প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অত্যন্ত খারাপ একটি দেশ যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য এই মূল্য দিতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।








