ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, চলবে আট জোনে
ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ ও নতুন নীতিমালা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে যে, নীতিমালাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ঢাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য মোট আটটি জোন করা হবে এবং মূল সড়কে এগুলো চলতে দেওয়া হবে না।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

৩০ আগস্ট সচিবালয়ে ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ ও নতুন নীতিমালা সংক্রান্ত একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান, ড. আবদুল মঈন খান এবং মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের নতুন নীতিমালাটি একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং হয়ে আসার পর এক সপ্তাহের মধ্যে বা পরের সপ্তাহেই যত দ্রুত সম্ভব এটি দিয়ে দেওয়া হবে। আইনের আলোকে এই নীতিমালাটি দিয়ে দিলেই ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
নতুন নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্তের কথা বলা হয়েছে। বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ থাকবে। সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাই এই রেজিস্ট্রেশনগুলো দেবে। এছাড়া বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির ডিজাইন অনুযায়ী যারা প্রোডাকশন করবে, সেই ফ্যাক্টরিগুলোর লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে রেজিস্টার্ড কোম্পানি হতে হবে।
ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্ট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিষয়েও নীতিমালায় নির্দেশনা রয়েছে। ই-রিকশাগুলো যে পয়েন্টগুলোতে বা গ্যারেজগুলোতে রিচার্জ করবে, সেখানে যাতে অবশ্যই সৌর বিদ্যুতে তা করা হয় সেজন্য চেষ্টা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি বাধ্য করা হবে। এছাড়া যেখানে তারা চার্জ দেবে, সেই পয়েন্টগুলোর লাইসেন্সও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকা থেকে নিতে হবে।
ঢাকা শহরের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক বিভাগের একটি প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার কথা জানানো হয়। ঢাকাতে উত্তরে ৪টি এবং দক্ষিণে ৪টি মোট ৮টি জোন করা হবে। এই অনুমোদিত ও রেজিস্টার্ড ই-রিকশার ৮টি জোনের ৮টি রং হবে এবং একটি জোনের ই-রিকশা যেন আরেকটি জোনে যেতে না পারে সেই চেষ্টা করা হবে। কোন রুটে ই-রিকশা চলাফেরা করবে, তা সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ বসে ঠিক করে দেবে। মূল সড়কে ই-রিকশা চলতে দেওয়া হবে না এবং ৮টি জোন করে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে সেগুলোর চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে এটি ৩টি ভাগে বিভক্ত থাকবে। ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে, এটার যাত্রী সংখ্যা হবে ২ এবং ৪ জন। ৬ জনের কোনো ই-রিকশাকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে না। তবে জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য ২, ৪ ও ৬ জনের ই-রিকশা রেজিস্ট্রেশন পাবে। নীতিমালাটি দিয়ে দিলে ই-রিকশা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








