ই-পেমেন্ট ক্রেডিট ও আমানত ফেরতের টাকা ছাড় শুরু
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত 'ই-পেমেন্ট ক্রেডিট' সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য তহবিল ছাড় করেছে এবং এ পর্যন্ত হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন সার্কুলার জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত 'ই-পেমেন্ট ক্রেডিট' সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা দৈনন্দিন বিভিন্ন বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এখানে প্রচলিত সুদভিত্তিক ঋণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সুদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে ফি পরিশোধ করে গ্রাহকরা এই সেবা নিতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বড় অঙ্কের ই-পেমেন্ট ক্রেডিটের ক্ষেত্রে ফিয়ের পরিমাণ কিছুটা ভিন্ন হবে। ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।
গঠিত হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে এবং মোট ৩ হাজার৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংকটির তহবিল ছাড়ের পর প্রথম দিনে ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি টাকা এবং ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।
আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, 'আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।' তিনি আরও যোগ করেন, 'একই সময়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক টাকা তুলতে শাখায় উপস্থিত হলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমানতকারীদের ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।'
গ্রাহকদের আস্থার বিষয়ে মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেছেন, 'তুলনামূলক কমসংখ্যক আমানতকারীর টাকা উত্তোলনের আবেদন ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকটির সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।' তিনি আরও জানান, 'যেসব আমানতকারী তাদের অর্থ ব্যাংকে রেখে দেবেন, তারা তাদের নিজ নিজ চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।' এছাড়া 'ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে প্রচলিত নিয়ম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী আমানতকারীরা মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন' বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, এই পুরো প্রক্রিয়ায় নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের কার্যক্রমও আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এই সার্বিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।








