সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু
দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আজ সোমবার থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার নিয়ে এই অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আমানতকারীদের সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা এই ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নতুন রূপ দেওয়ার পর এবার গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই পাঁচ ব্যাংককে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছিল, যা সুদসহ বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।
এদিকে ঘোষিত স্কিমের বাইরে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ বিতরণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়া বা তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আরিফ হোসেন খান।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দেয় যে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতে কোনো ধরনের 'হেয়ারকাট' থাকছে না। এই পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেমন নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলমের অতীত কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে।








