আবাসন ও অভ্যন্তরীণ নকশায় বাড়ছে কাচের ব্যবহার
দেশের আবাসন ও কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ নকশায় কাচের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। দ্রুত বর্ধনশীল এই খাতে নিরাপত্তা ও বিশেষায়িত কাচের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের আবাসন ও কর্মক্ষেত্রে কাচের ব্যবহার অভ্যন্তরীণ নকশার অন্যতম মৌলিক অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। দেশের রিয়েল এস্টেট ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন খাতে কাচের বহুমুখী প্রয়োগ দিন দিন প্রসার লাভ করছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নান্দনিকতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাচ এখন অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের আবাসন খাতের পরিসরও বেশ বিস্তৃত। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির সদস্যভুক্ত ৯২৪ জন এবং দেশে আড়াই হাজারের বেশি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বিশাল আবাসনশিল্পের ২৬৯টি ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ খাতের মধ্যে কাচশিল্প অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের কাচের চাহিদার মধ্যে নিরাপত্তা টেম্পার্ড গ্লাস এগিয়ে রয়েছে। বর্তমানে মোট গ্লাসের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ দখল করে আছে এই নিরাপত্তা টেম্পার্ড গ্লাস। সাধারণ ফ্লোট কাচের চেয়ে টেম্পার্ড গ্লাস ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং আধুনিক ভবন নির্মাণে ১০ মিমি থেকে ১২ মিমি পুরুত্বের টেম্পার্ড গ্লাস ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাশাপাশি শব্দদূষণ রোধ ও নান্দনিকতার জন্য বিশেষায়িত কাচের ব্যবহারও বাড়ছে। বাজারে মোট চাহিdar প্রায় ২০ শতাংশজুড়ে রয়েছে সাউন্ডপ্রুফ ও বিশেষায়িত কাচ। শহরাঞ্চলের ভবনে শব্দের মাত্রা ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবল লেবেল পর্যন্ত কমাতে ডাবল গ্লেজড ইনসুলেটেড গ্লাস ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভবনে এই ধরনের বিশেষায়িত কাচ ব্যবহারের ফলে ব্যবহারিক সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের খরচ ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমায় এই কাচ। শক্তি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এসব উপকরণের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এই খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কাচের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় উৎপাদনকারীরাও তাদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নাসির ফ্লোট গ্লাসসহ অন্যান্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান উচ্চ প্রযুক্তির টেম্পারিং ও ইনসুলেটেড গ্লাস প্ল্যান্টের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খাতটির অভ্যন্তরীণ বাজার আরও শক্তিশালী হচ্ছে।








