আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ মামলা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনে পরস্পরবিরোধী তথ্যের বিষয় উঠে এসেছে। ফেনীর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই মামলার বিভিন্ন ধقে তদন্ত প্রতিবেদন ও পুনর্তদন্তে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:১৬· ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনে পরস্পরবিরোধী তথ্যের বিষয় সামনে এসেছে। ফেনীর আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে তদন্ত কর্মকর্তা ও পুনর্তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে অমিল পাওয়া গেছে। ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থানার তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তজু, মো. ইউসুফ এবং নূর মোহাম্মদ ওরফে এম নূর আহমেদসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৩০ মে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ৯ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে বিচারিক কার্যক্রম এগোতে থাকে এবং মামলাটি ট্রাইব্যুনালের নজরে আসে।
মামলার দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর চার্জ গঠনের আবেদন জানানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ইতিমধ্যে এই মামলার বিভিন্ন কার্যক্রমে রাজিয়া সুলতানা চমন, মতিউর রহমান, আবু আহমেদ জমাদার, শামছুল হক, আবদুল হক, মুজিবুল হক, আবদুর রউফ, আবদুল ওয়াহাব, শাহাবুদ্দিন, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, মো. জামিল হক, মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও মো. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের নাম ও ভূমিকা যুক্ত হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর। ট্রাইব্যুনালের আদেশে উপ-পরিচালক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুনরায় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট এই পুনর্তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলেনি। প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধের অভিযোগ আনা হলেও পুনর্তদন্তে তা ভিন্ন রূপ নেয়।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তোফাজ্জল হোসেন আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন এবং পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এই শুনানির সময় "শুধুমাত্র ব্যবসায়িক" সংক্রান্ত বিষয়টির অবতারণা করেন এবং আদালতের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ে।
ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য ২০২৪ সালের ৩১ দিন ধার্য করেন। চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং পুনর্তদন্ত প্রতিবেদনের বৈপরীত্য এখন বিচারিক পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।








