আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবারে অনিয়ম, মাছ বাতিল
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম ও ছোট আকৃতির মাছ সরবরাহ করায় তা বাতিল করে মেনو পরিবর্তন করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন রোগীদের প্রতিদিনের নির্ধারিত খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহে নানা অনিয়ম করে আসছিল।
ঘটনার দিন হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগীদের জন্য দুপুরের খাবারে মাছ সরবরাহের কথা ছিল। নিয়মানুযায়ী এক কেজি ওজনের মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত মাছে ব্যাপক গরমিল দেখা যায়। নির্ধারিত এক কেজি ওজনের মাছের পরিবর্তে মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট আকৃতির মাছ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এসব মাছের আকার ও ওজন দেখে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দ্রুত চারদিকে জানাজানি হয়ে গেলে হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব নিজেই রান্নাঘরে উপস্থিত হন। ওই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, 'আমি সকালের দিকে হাসপাতালে রোগী দেখছিলাম। তখন স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি যে, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি রান্নাঘরে গিয়ে মাছগুলোর ওজন পরিমাপ করি। এসময় ওজন নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় সরবরাহ করা মাছগুলো বাতিল করে মেনু পরিবর্তন করি ও মাছের বদলে রোগীদের মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দিই।'
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অনিয়ম ধরা পড়ে। রান্নাঘরে গিয়ে স্বচক্ষে মাছের ওজন কম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তিনি মুহূর্তের মধ্যে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দিনের জন্য নিম্নমানের মাছের সরবরাহ পুরোপুরি বাতিল করা হয়।
শুধু মাছ বাতিল করেই ক্ষান্ত হননি ওই চিকিৎসক, রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের মেনু পরিবর্তন করেন। বাতিলকৃত মাছের পরিবর্তে রোগীদের জন্য মুরগির মাংস সরবরাহের নির্দেশ দেন তিনি। ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিবের এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে রোগীদের সঠিক ও মানসম্মত খাবার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।








