আকস্মিক আনাক ক্রাকাতাও অগ্ন্যুৎপাত, বিমান চলাচল স্থগিত
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতে ব্যাপক ছাই ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একাধিক বিমানবন্দর স্থগিত হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরিতে সম্প্রতি তীব্র অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা ফোয়ারা উদ্গিরণ হয়েছে এবং জাকার্তা ও সুমাত্রা-জাভা প্রদেশে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক বিমানবন্দর তাদের কার্যক্রম স্থগিত ও বন্ধের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। জাকার্তা থেকে ১৫০ কিলোমিটার (৯০ মাইল) দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার কারণে আকাশপথে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় খাদের চারপাশে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি বর্জন ক্ষেত্র বা এক্সক্লুশন জোন প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় যাওয়া বা জাহাজের মাধ্যমে সেখানে চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই অগ্ন্যুৎপাতের কার্যক্রমের সাথে কোনো সুনামি সতর্কতা যুক্ত নেই বলে ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। জিওলজিক্যাল এজেন্সি বা ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে যে, আগাম সময়ে আরও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা উচ্চ রয়ে গেছে।
এই অগ্ন্যুৎপাতের জেরে ব্যাপক বিমান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সূত্র ১ এর তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং দুই লাখ সত্তর হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অন্যদিকে সূত্র ২ এর তথ্য অনুযায়ী, আটটি বিমানবন্দর স্থগিত করা হয়েছে, বাইশ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং দুইশ নয়টি ফ্লাইট ও বালি থেকে আসা-যাওয়ার ষোলোটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে যাত্রীরা বিভিন্ন বিমানবন্দরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সী ফিন্না জানান, সকালের ফ্লাইটের যাত্রীরা জমে যাওয়ায় এবং পরবর্তী ফ্লাইটের যাত্রীরা অনিশ্চয়তায় থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জনাকীর্ণ ছিল। জো শ নামের ৪৪ বছর বয়সী এক যাত্রী মন্তব্য করেন যে সবাই মাথা ঘামাচ্ছেন এবং বিমানবন্দর হোটেলে আটকে থাকা কয়েকদিনের মধ্যে সমাধানযোগ্য একটি ছোটখাটো অসুবিধা। তবে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে আটকে পড়া ৪৭ বছর বয়সী আমির হামজা আক্ষেপ করে বলেন যে তারা মাত্র কয়েকদিনের টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং গতকালই বাড়ি ফেরার কথা ছিল, এখন তারা এখানে পাঁচ দিন কী করবেন তা বুঝতে পারছেন না।
আরেক যাত্রী হেন্নি য়েলসান জানান যে সবাই হতাশ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কেউ রাগে ফেটে পড়েননি। স্যামুয়েল গুইবারটিউ উল্লেখ করেন যে এই মুহূর্তে কিছুই নিশ্চিত নয় এবং তিনি সিটিলিংকের আরেকটি ফ্লাইট খুঁজে পেলেও সেটিও বাতিল করা হয়েছে। সুহারিয়ান্তো আশা প্রকাশ করেন যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে দৈনিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করা আগ্নেয় ছাই দ্রুত ধুয়ে যাবে। দুরি পুরওয়গান্ধি জানান যে গতিশীল আবহাওয়ার কারণে এটি কবে শেষ হবে তা তারা নিশ্চিত করতে পারছেন না এবং ছাইয়ের বিস্তার বাড় বা কমছে কিনা তা অনুমান করার চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও ক্রমবর্ধমান অগ্ন্যুৎপাতের কার্যকলাপের কারণে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
লানা সারিয়া ব্যাখ্যা করেন যে সিসমিক বা ভূকম্পন কার্যকলাপ আগ্নেয় সিস্টেমের মধ্যে আগ্নেয় তরল পদার্থের আন্দোলন বা মুক্তি নির্দেশ করে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে পরবর্তী অগ্ন্যুৎপাতের সময়, মাত্রা এবং প্রকৃতি নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ৪০,০০০ কিলোমিটার (২৫,০০০ মাইল) এলাক জুড়ে সমস্ত ভূমিকম্পের ৯০ শতাংশ এবং সমস্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫২টি পৃথক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এছাড়া অতীতে এই অঞ্চলে ১৮৮৩ সালের অগ্ন্যুৎপাতে ৩৬,০০০ মানুষ এবং ২০১৮ সালের সুনামিতে চারশ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।








