আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তান বিক্রির অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকায় দেড় বছরের শিশুপুত্র মুসাকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাবা মো. মারুফের বিরুদ্ধে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে অন্য একজনের কাছে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পিতার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে। অভিযুক্ত পিতার নাম মো. মারুফ এবং তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিশুটির নানি মাহফুজা বেগম জানান, গত শনিবার সকালে তাকে নাতিকে জামা-কাপড় পরিয়ে দিতে বলেন মারুফ। সে সময় মারুফ বলেছিল যে সে মুসাকে নিয়ে বাজারে যাবে। কিন্তু অনেক সময় পার হয়ে গেলেও তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে খোঁজ নিতে গিয়ে পরিবার জানতে পারে যে শিশুটিকে টাকার বিনিময়ে অন্য একজনের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা দিয়ে একটি আইফোন কেনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যмы বা সংশ্লিষ্টদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মাহফুজা বেগম আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, 'আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই।'
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মারুফ তার দেড় বছরের শিশুপুত্র মুসাকে দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেনের কাছে রেখে দিয়েছেন। এই ঘটনার সাথে আরও কিছু নাম ও স্থানীয় সূত্র জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে মফিজ মুন্সি ও বৃষ্টি নামক ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। তবে শিশুটির নিখোঁজ হওয়া এবং হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে দশমিনা থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দশমিনা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিশুটির বাবা যার কাছে শিশুটিকে রেখে গেছেন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধারের কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে ঢাকা থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশি তদন্তে লেনদেনের বিষয়ে কিছু ভিন্ন দিকও উঠে আসছে। দশমিনা থানার মো. আতিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানিয়েছেন, এখানে প্রকৃতপক্ষে টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক কারণ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ এই ছোট শিশুটির বাবা-মায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক নেই। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।








