১৫ বছর পর ভারত থেকে নিজ পরিবারে ফিরছেন বাংলাদেশি নারী আনজু
দীর্ঘ ১৫ বছর পর আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিজের পরিবারে ফিরে আসছেন আনজু। মানসিক অসুস্থতার কারণে নিখোঁজ হয়ে তিনি ভারতে চলে গিয়েছিলেন এবং কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ পরিবারে ফিরে আসছেন ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনজু। মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন এবং একপর্যায়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে একটি বড় মানবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আনজু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার তাকে নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, তা ওই সময়ে পরিবারের অজানা ছিল।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ভারতের কলকাতার পাবলভ হাসপাতালে তার খোঁজ মেলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পরিচয় শনাক্তের পর তাকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা 'ঈশ্বর সংকল্প'-এর আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ বছর ধরে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে তার পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের কাজ চলে, যা তার সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে আনজুকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যশোর জেলার এই বেনাপোল সীমান্ত পয়েন্টেই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তাকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সফল করার পেছনে দুই দেশের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোছা. জোসনা বেগম, মো. শামসুল হুদা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা।
এছাড়াও এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ, রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। এসব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আনজুর পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
১৫ বছর পর আনজুর এই ফিরে আসার খবরে তার পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৩৫ বছর বয়সী আনজুকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তার স্বজনেরা। বেনাপোল সীমান্তে তাকে গ্রহণ করার জন্য পরিবারের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।








