সুনামগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পকেটে মিলল চিরকুট
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে এমরান হোসেন নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চুরির মিথ্যা অপবাদ ও সালিসে অপমানের কারণে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০১· ১ মিনিট পড়া

আজ শনিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। এই গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দায় বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় এমরান হোসেন নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, তারা ঘটনাস্থল থেকে এমরানের লাশ উদ্ধার করেছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার তদন্তের বিষয়ে সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা রতন শেখ জানান, তিনি বর্তমানে ঘটনাস্থলে আছেন এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে লাশের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
এদিকে পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে এমরানের শার্টের পকেট তল্লাশি করে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। ওই চিরকুটে কী লেখা রয়েছে বা এর সঙ্গে ঘটনার কী যোগসূত্র রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো সূত্র থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নিহতের বাবা আবদুল হাসিম এই মৃত্যুর জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এমরান তাঁর সোনার ছেলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ তোলা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সালিসে তাঁদের সবাইকে অপমান করা হয়েছে এবং মূলত এ জন্যই তাঁর ছেলে মারা গেছে।
এই ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চিরকুটের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও সদর মডেল থানা বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।








