সিলেটে ওয়াকফ এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৩০
সিলেট নগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং দোকান কোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২১ আগস্ট ঘটা এই সংঘর্ষে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

সিলেট নগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং দোকান কোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদ সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তথ্যে জানা গেছে, মূলত মাজার ওয়াকফ এস্টেট, এর আওতাধীন মসজিদ এবং এলাকার বিভিন্ন দোকান কোটার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ২১ আগস্ট দুপুরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলামে ঘটা এই সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও আক্রান্ত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্যসহ মোট অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও জড়িত রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক একটি অনুমোদিত কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ পর্যন্ত গড়ায় এবং হাইকোর্ট সেই কমিটিকে বহাল রাখেন।
তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে আদালত বা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আলোকে আবেদ রাজাকে ওই ওয়াকফ এস্টেটের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল। এই প্রশাসনিক ও আইনি আদেশ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বেলা ১টার দিকে মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং দোকান কোটার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাওয়ালা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে আহতদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং দোকান কোটার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ঘটা এই সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বর্তমানে সিলাম এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে বলে জানা গেছে।








